সেরা গল্প-তৃতীয় কল্প (জুলাই -সেপ্টেম্বর ২০২০) রঞ্জিতা চট্টোপাধ্যায়

সেরা গল্প-তৃতীয় কল্প (জুলাই -সেপ্টেম্বর ২০২০) রঞ্জিতা চট্টোপাধ্যায়

শিল্পী মাত্রেই জীবনরসিক। তাই কবি, গল্পকার , চিত্রকর সকলেই জীবনের কাহিনী লেখেন বা ফুটিয়ে তোলেন রং ও রেখায়। সময়কে বাদ দিয়ে জীবনের গল্প বলা যায় না। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই কোন নির্দিষ্ট সময়ের শিল্পে ফুটে ওঠে সেই সময়ের জীবনচিত্র। আর কোন গল্প, নাটক, চলচ্চিত্র বা উপন্যাস শিল্পোত্তীর্ণ হয় তখনই যখন কোন বিশেষ সময়ের কথা সেখানে বলা হলেও তার আবেদন কোন সময় খন্ডের পাঠক বা শ্রোতার কাছে  আবদ্ধ নয়। বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে বারেবারেই এ কথা মনে আসে।

 

বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের ক্ষেত্রটি ঊর্বর। তার কোণে কোণে নিয়ত ফুটে উঠছে সোনার ফসল। লেখা হয়ে চলেছে নিত্যনতুন ছোটগল্প।  আসলে ছোটগল্প কোনরকম নান্দীমুখ ছাড়াই বলা যায়।  জীবনের আখ্যান , বয়ে চলা সময়ের গল্প বলার কোন ব্যাকরণ নেই। নেই আঙ্গিকের দৃঢ় বিধিবিধান। সময়ের প্রতিচ্ছবি যেভাবে এসে ধরা দেয় গল্পকারের লেখনীতে সেভাবেই তিনি তা ফুটিয়ে তোলেন গল্পে। আর তাইজন্যই ছোটগল্পের জগতে এমন বর্ণময়তা।

 
সেরা গল্পের ওয়েবসাইটের তৃতীয় কল্পে সংকলিত হল নানা স্বাদের গল্প। ‘ ইদানীঙ শামসাদ আজাদের মনে হয় মানুষ একটি চতুষ্পদ জন্তু ‘ বা ‘জীবন মূলত প্রকৃতির মতো। প্রকৃতিতে যেমন দিন রাত হয়, মেঘ-বৃষ্টি-রোদ হয়, জীবনেও এরকম দিনরাত আছে, মেঘ-বৃষ্টি-রোদ আছে।’  জীবন  নিয়ে গল্পের চরিত্রদের ভাবনা আর কথাবার্তায় নানারকম পরীক্ষা নিরীক্ষার চিহ্ন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে গল্পগুলিতে।  হিন্দোল ভট্টাচার্য্যের ‘সংক্রমণ’ কিংবা হামিরুদ্দিন মিদ্যার ‘পীর সাহেবের আস্তানা ‘ পড়লে পাঠক অনায়াসে কল্পনা করতে নিতে পারেন এগুলির রচনাকাল। ইন্দ্রানী দত্তের ‘মুকুলের বাড়ী ‘ গল্পটিও এর ব্যতিক্রম নয়। গল্পগুলি এ সময়ের এক দলিল বললেও অত্যুক্তি হয় না। তাই এসব ছোটগল্পের  ইতিহাসগত মূল্যও যথেষ্ট।
 
 তবে সময়ের প্রবাহ নিরবিচ্ছিন্ন। আমরা নিজেদের সুবিধেমতো তাকে অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতে ভাগ করে নিয়েছি।  ইসরাত তানিয়ার ‘মেলো ইয়েলো শিউলিগাছ আর বারান্দা হচ্ছে ‘ গল্পের নিবিড় আত্মকথন  বা সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের  ‘বধ্যভূমি ‘ গল্পে আবেগহীন অথচ গভীর যে ভালবাসার চিত্র ফুটে উঠেছে তা আবহমান। কুন্তলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রোল মডেল ‘ গল্পে উঠে এসেছে এমন সব মানুষদের কথা যাঁদের নিয়ে বারবার লেখা হলেও বাকী থেকে যায় আরো অনেক আখ্যান। রজত ভট্টাচার্যের ‘আমি, সমি আর কয়েকজন ‘ যেন একঝলক তাজা বাতাস বয়ে আনে পাঠকের বুকে। ‘মোরেলগঞ্জের পিসেমশাই ‘ সৃষ্টি হয়েছে এক শক্তিশালী কথাশিল্পীর লেখনীতে।  এ গল্পের ভাব ও ভাবনা দুইই পাঠকদের পৌঁছে দেবে এক অসাধারণ ভাললাগার জগতে।
 
এক কথায় বলতে গেলে সেরাগল্পের তৃতীয় কল্পে সংকলিত গল্পগুলিতে প্রতিফলিত হয়েছে বাংলা ছোটগল্পের বহুমাত্রিকতা।  আমরা  আনন্দিত যে ছোটগল্পের এই বৈচিত্র্যময় ভুবনের সন্ধান পাঠকদের দিতে পারলাম আরো একবার। বাংলা ছোটগল্পের পুষ্টি ও সমৃদ্ধির ধারাটি অব্যাহত রাখতে গল্পকারদের পাশাপাশি প্রয়োজন মননশীল পাঠকগোষ্ঠীর। সংকলিত গল্পের সঙ্গে আলোচনাগুলি আশা করি পাঠকদের অনুপ্রেরণা দেবে গল্পগুলি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার। আপনাদের ভাবনা আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিলে তবে জানব আমাদের চেষ্টা সার্থক। কিভাবে এ কাজটি সম্ভব তা ওয়েবসাইটে বলা আছে। নিজেদের গল্প সম্বন্ধে লেখকরাই বা কি ভাবছেন ? একই  ওয়েবসাইটে বিভিন্ন কথা সাহিত্যিকদের মনোজগতের এক ঝলক দেখতে পাওয়া যাবে।  আমাদের ভালবাসার এই প্রয়াসে আগামীদিনে আপনাদের সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব আমাদের সঙ্গে থাকবে  আশা রাখি।

Story Room Registration